Thursday, May 30, 2024


বগুরায় চার বসরের শিশু কে অপহরনের পর হত্যা গ্রেফতার ২

বগুরা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে সানজিদা খাতুন (৪) নামে এক শিশুকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে পরে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।…

By স্টাফ রিপোর্টার , in অপরাধ ও দূর্নীতি , at November 20, 2021

বগুরা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে সানজিদা খাতুন (৪) নামে এক শিশুকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে পরে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভর (১৪) বাড়ির স্টিলের বাক্স থেকে সানজিদার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সানজিদা গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের লাঠিমার ঘোন উত্তরপাড়া গ্রামের শাহীন প্রামাণিকের মেয়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই কিশোরও একই এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃত হলো নবম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ ও যষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শুভ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর দুই কিশোর শিশু সানজিদাকে অপহরণ এবং হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত সানজিদার লাশ আজ বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শুভ জানায়, তার খালার বিয়ে উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় কেনার টাকার জন্য তারা সানজিদাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। তিনি বলেন, ‘দুই কিশোর জানিয়েছে তারা ভারতীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের (সনি আট) ক্রাইম পেট্রোল অনুষ্ঠান দেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের কৌশল রপ্ত করে।’ পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ৪ বছর বয়সী সানজিদা গতকাল বুধবার সকালে বাড়ির উঠানে খেলছিল। তবে সকাল ১০টার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর সানজিদার বাবা সেই মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তার কাছেও মেয়েকে ফিরে পেতে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। তবে কয়েকবার কথা বলার পর অপহরণকারীরা টাকার অঙ্ক কমিয়ে ৫০ হাজার দাবি করে এবং বুধবার রাত ৭টার দিকে দাবি করা টাকা গ্রামের একটি কালভার্টের নিচে রেখে আসতে বলে। পাশাপাশি বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর জন্যও হুঁশিয়ার করা হয়। এরপর সানজিদার বাবা শাহীন প্রামাণিক পুরো ঘটনাটি গাবতলী থানায় জানালে পুলিশ নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরহণকারীদের নির্ধারণ করে দেওয়া সেই কালভার্টের অদূরে ওঁৎ পেতে থাকে। এরপর রাত ৭টার দিকে এক ব্যক্তিকে ওই কালভার্টের কাছে আলো দিয়ে কিছু খুঁজতে দেখে পুলিশ ও সানজিদার স্বজনরা সেখানে গিয়ে ওই ছেলেকে ধরে ফেলেন। পরে তার মুখ দেখে চিনতে পারে সে একই গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বলের ছেলে রিয়াদ। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ রাত ১১টার দিকে একই গ্রামে সাজুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি স্টিলের বাক্সের ভেতর থেকে নিহত সানজিদার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। পরে ওই রাতেই পাশের কদমতলী গ্রামে নানার বাড়ি থেকে পুলিশ রিয়াদের সহযোগী শুভকেও গ্রেপ্তার করে। গাবতলী মডেল থানার ওসি জানান, রিয়াদ নিজেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী দাবি করেছে। আর শুভ বলেছে সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।